অন্তরাদের বাড়ি
অন্তরাদের বাড়ি
যুবাইর ইসহাক
কুশিয়ারার বুক হালকা বাতাসে ফুলে ফুলে ওঠে। কোনো কোনো বিষণ্ণ দুপুরে মাতাল তরঙ্গ দোল খায়। কুশিয়ারার পাড়-ঘেঁষে চলে গেছে অজানা গাঁয়ের পথ। পথের পাশে একা দাঁড়িয়ে আছে বৃদ্ধ শিমুলগাছ। বাতাসে যার লাল লাল ফুল ঝরে পড়েছে নিচে। তার অদূরে মাদার গাছের ডালে শালিকের বাসা।পথের
অন্যপাশে ছবির মতো
সবুজ চালের একটা
বাড়ি। শিমুলতলার নিচ
থেকে তাকালে মনে
হয়, একটা
আস্ত সন্ধ্যা বাড়িটা
গিলে ফেলছে।
একদিন
সাজু এই পথ
দিয়ে যেতে যেতে
বলেছিলো, এটা
অন্তরাদের বাড়ি। অন্তরা আমাদের
কেউ ছিলো না। অথচ চাইলেই
অনেককিছু হতে পারতো। এতদিন পর
তার কি মনে
আছে, একসময়
আমরা একে অপরকে
চিনতাম।
আমি
প্রতিদিন সন্ধ্যায় কাজ
শেষে এই পথ
ধরে বাড়ি ফিরি। অন্তরাদের বাড়ির
কাছাকাছি আসতেই আমার
বুক ধড়ফড় করতে
থাকে। লজ্জা বা
শংকায় বাড়ির দিকে
চোখ তোলে তাকাতে
পারি না। আনমনে অন্যদিকে
মুখ ফিরিয়ে নিই। কেন যেন
মনে হয়,
এই বুঝি অন্তরা
আমাকে জানালা থেকে
দেখে ফেললো। তাদের লম্বা
বারান্দা থেকে উঁকি
দিয়ে বুঝতে চেষ্টা
করলো, সত্যি
আমি যাচ্ছি কি না।
অথচ
তখন তাদের বারান্দায়
কয়েকটা ভেজা কাপড়
আর জানালায় নীল
পর্দা ঝুলানো ছাড়া
কিছুই থাকে না।
লেখক: গল্পকার অনুবাদক
.png)

No comments