আরজ আলীর বাড়ি ফেরা
আরজ আলীর বাড়ি ফেরা
আরজ
আলী লকডাউনে বাড়ি
ফিরতে চায়নি,
তবুও তাকে রওনা
হতে হলো। বাড়িতে তার
স্ত্রীসন্তান। পুতুলের মতো
এক ছেলে এক
মেয়ে সংসারে। মেয়েটা রমজানের
প্রথম থেকে বলছে, এবার আমাকে লাল
জামা কিনে দিতে
হবে। ছেলের আবদার, এক জোড়া চামড়ার
জুতো।
আরজ
আলী ঢাকা শহরে
রিকশা চালায়। খেয়েপরে,
সংসার চালিয়ে,
টাকা জমিয়ে সন্তাদের
সখ মেটানো তার
জন্য কষ্টকর। তাই জামাজুতোর
জন্য অতিরিক্ত কাটতে
হয় তার।
ঈদের
আগে যখন কঠোর
লকডাউনের ঘোষণা হলো, মনে মনে ভেবেছিল, যাক এবার বাড়িতে
না যাওয়ার একটা
অজুহাত পাওয়া গেলো। কিন্তু বাড়িমুখো
মানুষের ভিড় দেখে
তার মন টেকে
না। বুক ছটফট
করে উঠে। দুইটা সন্তানের
মুখ ভাসতে থাকে
চোখের সামনে।
সন্তানদের
জামাজুতো, জমানো
টাকা ব্যাগে ভরে
সে ট্রাকে চড়ে
ডাবল ভাড়ার বাড়ির
দিকে রওনা হয়। ফেরিঘাটে এসে
গাড়ি থামে। এখানে প্রচুর
ভিড়। সরকার করোনার
সংক্রমণ ঠ্যাকাতে ফেরি
পারাপার বন্ধ করে
দিয়েছে। ঢাকা থেকে
বাড়িমুখো মানুষকে আটকাতে
বসিয়েছি অতিরিক্ত পুলিশ। সে ট্রাক
থেকে নেমে ভিড়ে
দাঁড়ায়।
আরজ আলী দেখে মানুষ ট্রলারে নদী পার হচ্ছে। সে-ও একদল মানুষের সঙ্গে ট্রলারে উঠে। নদীর মাঝপথে হঠাৎ ট্রলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। আস্তে আস্তে পানিতে তলিয়ে যেতে থাকে। আরজ আলী আর কিছু বলতে পারে না। মৃত আরজ আলীকে যখন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়, পাড়ের জীবিত লোকেরা দেখছিল, সন্তানের জন্য কেনা জামাজুতোর ব্যাগটা সে হাত দিয়ে বুকের সাথে ঝাপটে ধরে আছে।
লেখক: গল্পকার ও অনুবাদক
.png)

No comments